ব্রেকিং নিউজ :
Home » অন্যান্য » ক্যরিয়ার » ব্যবসায় উন্নতির সাতটি কৌশল

ব্যবসায় উন্নতির সাতটি কৌশল

9890

প্রাইম নিউজ ডেস্ক : কিছু সহজ আদর্শ মেনে চললে আপনি যে শিল্পতেই থাকুন না কেন উন্নতি করতে পারবেন

অনেক ব্যবসায় মালিকই  উদ্যোক্তা হয়ে জন্মায় না, অনেকে কখনো ভাবেও না যে সে ব্যবসা চালাবে। তাদের সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনার কোনো পূব অভিজ্ঞতা ও থাকে না। যাহোক, বহু বছরের ব্যবসায়ের অভিজ্ঞতা অনেককে এমন কিছু শিখিয়েছে যা সকল চরাই উতরাই পেরিয়ে উন্নতির ধারা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। আপনি যে ব্যবসাই করেন না কেন নিম্নোক্ত উপায় গুলো মেনে চললে সাফল্য আসবেই।

১। জানতে হবে আপনি কি করতে পারেন আর কি করতে পারেন নাঃ

শুরুতেই মনে রাখতে হবে, সব ধরনের কাজ করে সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা না করাই ভালো, এতে করে কোন একক কাজ ভাল ভাবে না করতে পারা বা নিজের বিশেষ দক্ষতা ফুটে উঠে না। যে কারনে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানের প্রস্তাব, নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে পণ্য উদ্ভাবনের চেষ্টা অথবা কিছু টাকার জন্য পূর্বনির্ধারিত বাজারের বাইরে বিপননের চেষ্টা করা সব সময় ঠিক নয়। যখন এটা করা হয় তখন লক্ষ্য অর্জন ঝুঁকির মুখে পরে এবং আপনি আপনার দলের সদস্যদের, বাজেট এবং সর্বোপরি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অযাচিত বোঝার সৃষ্টি করেন।

২। প্রাপ্তির দিকে স্থির লক্ষ্য রাখুনঃ

উন্নতির পথে আমরা সব সময়ই কৌশলী থাকার চেষ্টা করি। সাধারণত তিন বছরের ব্যবসায়ের পরিকল্পনা তৈরি করার চেষ্টা করুন, তা অনুসরন করার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজন বুঝে তাকে পরিবর্তন করুন। এটা বিশ্বাস করুন যে লক্ষ্য স্থির ছাড়া সকলের কাজের গতি নিরুপনের আর কোন উপায় নেই। যখন প্রতিষ্ঠানের সকলের লক্ষ্য সম্পর্কে সম্যক ধারনা থাকবে তখনি সবাই একসাথে তা অর্জনের জন্য কাজ করতে পারবে।

৩। মনে রাখতে হবে মানুষ মানুষের জন্য কাজ করে প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়

মেধাহীন ব্যক্তিদের দিয়ে কোন ব্যবসায় চলছে এবং উন্নতি লাভ করছে এমন নজির খুব কমই আছে। সত্যি বলতে,আমরা প্রায়ই বলি মানুষই হল আমদের একমাত্র সম্পদ যারা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছে এবং আমরা সবসময়ই তাদের উন্নত সুযোগ-সুবিধা প্রদানের চেষ্টা করি যার কারণে তারাও আমাদের সাথে কাজ করতে চায়। অনেক প্রতিষ্ঠান এটা ভুলে যান যে, কাজের প্রতি নিষ্ঠা তখনই আসে যখন কর্মীরা এটা বিশ্বাস করে যে প্রতিষ্ঠান এবং এর কর্তা ব্যক্তিরা তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে এবং পেশাদারীত্তের কারনে একে অপরের সাথে জড়িত। তখন কর্মীরা কাজের উদ্দম হারিয়ে ফেলে এবং প্রতিষ্ঠান তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়।

৪। ভালভাবে ব্যবসায় চালনা করা আর ব্যবসায় ভাল হওয়া এক কথা নয়

আমারা প্রায়ই বলে থাকি যে কেউ একজন গণ-সংযোগে খুব ভাল দক্ষ। খুব ভাল মানে এই নয় যে সে একটা গণ-সংযোগের এজন্সি খুব ভালভাবে চালাতে পারবে। অন্য সব পেশার ক্ষেত্রে ও এ কথাটা সত্য। ভাল ব্যবসায়িক মন আর সুনির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রে অনন্য দক্ষতাই সফলভাবে ব্যবসায়ের উন্নতির মূলমন্ত্র।সফল ব্যবসায়ের পিছনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গুলো হলঃ প্রক্রিয়া, মানব ব্যবস্থথাপনা, বিল ও কার্যপ্রণালী। অনেক কর্মদ্দোমী মানুষ ব্যবসায় পরিচালনায় দারুনভাবে ব্যর্থ হয়েছে কেবল মাত্র সম্যক প্রাতিষ্ঠানিক কাজের কথা না ভাবে নিজের দায়িত্বের দিকে সবটুকু মনোযোগ দেবার কারনে।

৫। আসক্তি সংক্রামক

আপনি যখন আপনার কাজ কে ভালোবাসেন তখন তা আপনার আশেপাশের মানুষের কাছে দৃশ্যমান হয়। কর্মোদ্যম এবং কর্মোদ্দীপনা দেখানো আপনার দলের কঠিন কাজ সহজ করার ও লক্ষ্যে স্থির থাকতে সাহায্য করে, যা আপনাকে কর্মক্ষেত্রে সফল হতে সাহায্য করবে। এর বিপরীতে যে তাঁর কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট নয় সে কর্মক্ষেত্রেও বাঁধার সৃষ্টি করে।

৬। সবসময় নিজের উন্নতির জন্য নিজের সাথে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে প্রতিনিয়ত বদলে দিচ্ছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে যে কোন শিল্পেই নতুনত্ব প্রয়োজন। এটা হতে পারে-নতুন অনুষ্ঠান, নতুন চিন্তা অথবা নতুন প্রক্রিয়া। হয় আপনি এগিয়ে যাবেন অথবা অচল হয়ে যাবেন। তাই আমরা অনবরত কাজ করার নতুন উপায় খুঁজি যা হতে পারে উন্নত পণ্য, আমাদের ক্রেতার সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং কাজে আরও পারদর্শী হাওয়া যা শেষপর্যন্ত বিশাল মুনাফার সৃষ্টি করে।

৭। “পণ্য বানালে ক্রেতা আসবেই” এই মানসিকতার অবসানঃ

প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অনেক ব্র্যান্ড বাজারজাতকরণকে একটি খরচের উৎস বলে মনে করে। শুরুতে অনেকে এতে খুব একটা খরচ করতে চায় না। যাই হোক, এর ফলে বাজারে পণ্যের ভাল দিকগুলোর ধারণা কম থাকে। এমনকি যে ধারণা নিয়ে তারা পণ্যটি বাজারে আনে যে “তাদের পণ্য এতই সেরা যে এর ক্রেতারা দল বেঁধে তা কিনছে” এ ধারণাও বিপন্ন হয়।

ভোক্তারা পণ্য কেনার বেপারে খুবই সচেতন। তারা সেই পণ্যই কিনতে চান যা তারা ব্যবহার করেছে অথবা যে পণ্য সম্পর্কে কেউ ভালো বলছে। তাই খেয়াল রাখতে হবে যে নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং এর বাজারজাতকরণ যেন সমান গুরুত্ব পায় এবং সাথে সাথে এই নিশ্চয়তা দেয় যে, পণ্যের খুচরা বিক্রি শুরু হলে ভোক্তার যেন তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য হাতের নাগালে পায়।

দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ব্যবসায়ে সাফল্যের কোন নিশ্চয়তা নেই। এটা এক দিকে কৌশল এবং অন্য দিকে নতুন চিন্তার সমন্বয় যা একটি ব্যবসায়ের সাফল্য নিয়ে আসে। তথাপি, উল্লেখিত সুপারিশসমূহ ব্যবসায় উন্নতির পথের সাধারণ সমস্যা গুলো দূর করতে সাহায্য করবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.