ব্রেকিং নিউজ :
Home » অন্যান্য » শিল্প ও সাহিত্য » আধুনিক মুসলিম সাহিত্যিক : মীর মোশাররফ হোসেন

আধুনিক মুসলিম সাহিত্যিক : মীর মোশাররফ হোসেন

899প্রাইম নিউজ ডেস্ক : আধুনিক যুগের মুসলিম বাংলা সাহিত্যিকদের প্রথম সারির ব্যক্তি ছিলেন মীর মোশাররফ হোসেন। তিনি বাংলার মুসলমান সমাজে আধুনিক সাহিত্য ধারার সূচনা করেন। আধুনিক যুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাহিত্যিকদের অগ্রদূত ও বাংলা গদ্যের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে তাকে গণ্য করা হয়। মীর মোশাররফ হোসেন তাঁর বহুমুখী প্রতিভার মাধ্যমে উপন্যাস, নাটক, প্রহসন, কাব্য ও প্রবন্ধ রচনা করে আধুনিক যুগে মুসলিম রচিত বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধ ধারার প্রবর্তন করেন। জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতাকে তিনি তাঁর রচনাবলীর বৈচিত্র্যময় আঙ্গিকে রূপদান করেছেন।

বহু প্রতিভার অধিকারী, মানবদরদী ও সমাজ হিতৈষী মীর মোশাররফ হোসেন ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই নভেম্বর বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার নিকটবর্তী লাহিনীপাড়া গ্রামে বিখ্যাত ‘সৈয়দ’ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা, মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। ছেলেবেলায় নিজ বাড়ীর মুনশি/হুজুরের কাছে আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মোশাররফ হোসেনের হাতেখড়ি হয়। এরপর গ্রামের জগমোহন নন্দীর পাঠশালায় লেখাপড়া আরম্ভ করেন। পাঠশালার পড়া উত্তীর্ণ হবার পর তিনি কুষ্টিয়ার ইংরেজী বাংলা স্কুলে (এম এন হাই স্কুল) অধ্যয়ন শুরু করেন। কিন্তু নানা কারণে এখানে বেশিদিন থাকা সম্ভব হয়নি। তারপর তিনি পদমদীর নবাব স্কুলে এক বছর অধ্যয়ন করেন। শিক্ষার জন্য এভাবে নানা স্থানে ঘোরার পর তাঁর পিতার নির্দেশে তিনি ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হয়ে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করে কলকাতার কালীঘাট স্কুলে ভর্তি হন; কিন্তু লেখাপড়া আর বেশি দূর অগ্রসর হয়নি। যদিও এই সব থেকেই লেখাপড়ার ব্যাপারে তাঁর অদম্য উৎসাহের পরিচয় পাওয়া যায় এবং পরবর্তী জীবনে এটিকে কাজে লাগিয়ে তিনি যে সার্থক ও সাফল্যে উন্নীত করতে পেরেছেন, সে বিষয়ে আজ আর কারও সন্দেহের অবকাশ নেই।

কৃষ্ণনগরে অবস্থানকালে একটি অসাধারণ ঘটনা তাঁর জীবনের মোড় ঘুড়িয়ে দেয়। তাঁর পিতৃবন্ধু আলীপুরের আমিন মৌলভী নাদির হোসেন সাহেবের সুন্দরী প্রথমা কন্যা লতিফুন্নিসার সাথে মীর মোশাররফ হোসেনের পিতা-মাতার অনুমতিতে তাঁর বিবাহ স্থির হয়। কিন্তু বৈচিত্র নাদির হোসেন সাহেব প্রথমা কন্যার বিয়ে না দিয়ে প্রবঞ্চনাপূর্বক তার কুরূপা ও বুদ্ধিহীনা দ্বিতীয় কন্যা আজিজুন্নেসার সাথে ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দের ১৯ মে তারিখে বিয়ে পড়িয়ে দেন। পিতৃবন্ধুর এই আচরণে তিনি দুঃখিত হন এবং আট বছর পর তিনি পুনরায় বিয়ে করেন। এই নবপরিনিতা বিবি ‘কুলসুম’ ও তাঁর পরিবারে অনেকগুলো পুত্র-কণ্যা জন্ম লাভ করে। পরবর্তীতে বিবি কুলসুমের নামে একটি জীবনী লিখে গেছেন মোশাররফ হোসেন। কেউ কেউ মীরের প্রথম স্ত্রীর নাম খোদেজা বেগম বলেও দাবি করে থাকেন।

কর্মজীবনের শুরুতে মোশাররফ হোসেন পিতার জমিদারি দেখাশুনা করেন। পরে তিনি কিছুদিন ফরিদপুরের ‘পদমদী নবাব এস্টেটে’ চাকরী করেন এবং তারও পরে ১৮৮৫ সালে টাঙ্গাইলের ‘দেলদুয়ার এস্টেটে’র ম্যানেজার হন। কিন্তু জমিদার পরিবারের সাথে মনোমালিন্য এবং স্থানীয় লোক ও কর্মচারীদের সাথে বিবাদের কারণে এক সময় এ চাকরি ছেড়ে তিনি লাহিনীপাড়ায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং পরে ভাগ্যান্বেষণে কলকাতায় গিয়ে ১৯০৩-০৯ পর্যন্ত অবস্থান করেন। যদিও দেলদুয়ার জমিদারি এস্টেটে ম্যানেজারিতেই কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেন। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার এস্টেটে কাজের সময়টাকেই তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় মনে করা হয়, কারণ এখান থেকেই তিনি সামাজিক ও সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। মীরের শিক্ষা, কিশোর, যৌবন, বৈবাহিক জীবন ও কর্মময় জীবন কেটেছে এই পদমদীর নবাব আব্দুল লতিফের দরবারেই।

মোশাররফ হোসেন ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি ঈশ্বর গুপ্তের ‘সংবাদ প্রভাকর’ (১৮৩১) ও কুমারখালির ‘গ্রাম্য বার্তা’ প্রকাশিকার (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ‘গ্রাম্য বার্তা’র সম্পাদক হরিনাথ মজুমদার ওরফে ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্য রচনার মূল উৎসাহদাতা ও সাহিত্যগুরু। যদিও তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও তাঁর সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন। তৎকালীন সময়ে তিনি এই ‘গ্রাম্য বার্তা’ এবং ‘সংবাদ প্রভাকর’ দুটি পত্রিকাতেই সমানভাবে নিয়মিত সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। এছাড়াও মীর মোশাররফ হোসেন ‘আজিজননেহার’ (১৮৭৪) ও ‘হিতকরী’ (১৮৯০) নামে দু’টি পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন।

বাংলা সাহিত্যে মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান ও শক্তিমান গদ্যশিল্পী এবং ঊনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের অগ্রযাত্রার পথিকৃৎ। তাঁর পূর্বে বাংলা গদ্য সাহিত্যে কোনো উল্লেখযোগ্য মুসলমান সাহিত্যসেবীর নাম দেখা যায় না। তাঁর সাহিত্য কর্ম পরবর্তীকালে বহু মুসলিম সাহিত্য সাধককে সাহিত্য চর্চায় অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করেছিল। অল্প বয়সেই তাঁর সাহিত্য প্রতিভা বিকশিত হয়। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার মাত্র চার বছর পরেই প্রকাশিত হয় মীর মোশাররফের প্রথম উপন্যাস ‘রত্নবতী’ ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দের ২ সেপ্টেম্বর। এ সময় তাঁর বয়স মাত্র ২১ বছর। এরপর তিনি একে একে কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনা হলোঃ- গোরাই-ব্রিজ অথবা গৌরী-সেতু (১৮৭৩), বসন্তকুমারী নাটক (১৮৭৩), জমিদার দর্পণ (১৮৭৩), এর উপায় কি (১৮৭৫), বিষাদ-সিন্ধু (১৮৮৫-১৮৯১), সঙ্গীত লহরী (১৮৮৭), গো-জীবন (১৮৮৯), বেহুলা গীতাভিনয় (১৮৯৮), উদাসীন পথিকের মনের কথা (১৮৯০), তহমিনা (১৮৯৭), টালা অভিনয় (১৮৯৭), নিয়তি কি অবনতি (১৮৮৯), গাজী মিয়াঁর বস্তানী (১৮৯৯), মৌলুদ শরীফ  (১৯০৩), মুসলমানদের বাঙ্গালা শিক্ষা (দুই ভাগ ১৯০৩, ১৯০৮), বিবি খোদেজার বিবাহ (১৯০৫), হযরত ওমরের ধর্মজীবন লাভ (১৯০৫), মদিনার গৌরব (১৯০৬), বাজীমাৎ (১৯০৮), আমার জীবনী (১৯০৮-১৯১০), আমার জীবনীর জীবনী বিবি কুলসুম (১৯১০) ইত্যাদি।

তাঁর জমিদার দর্পণ নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত। তাঁর শেষ গ্রন্থ ‘আমার জীবনী’ এটি ১২ খন্ড – ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। ‘জমিদার দর্পন’ নাটক আত্মজীবনীমূলক, ‘উদাস পথিকের মনের কথা’, তার ব্যঙ্গ-বিদ্রুপাত্মক রচনা। ‘গাজী মিয়ার বস্তানী’ বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। কারবালার বিষাদময় ঘটনা নিয়ে লেখা বৃহৎ উপন্যাস ‘বিষাদ সিন্ধু’ (১৮৮৫-১৮৯১ খ্রি.) তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা। এ উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে। সেই ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে আজ অবধি ‘বিষাদ সিন্ধু’ বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে সমাদৃত হয়ে আছে।

মীর মোশাররফ হোসেন বাংলা কাব্য, প্রবন্ধ, উপন্যাস রচনা করে আধুনিক যুগে মুসলিম বাংলা সাহিত্যের এক নব্য সমৃদ্ধ ধারার প্রবর্তন করেন। সাহিত্য রস গ্রন্থ রচনাতেও তিনি বিশেষ কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। এছাড়া উপন্যাস ‘রত্নাবতী’ থেকে ‘বিবি কুলসুম’ বা ‘আমার জীবনীর জীবনী’ প্রকাশের মধ্যবর্তী সময়ে উপন্যাস, নাটক, প্রহসন, কাব্য, গীতিনাট্য, প্রবন্ধ, সমাজচিত্র, প্রভৃতি নানা বিষয়ে তার প্রকাশিত, অপ্রকাশিত কমপক্ষে ৩৫টি গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে।

তাঁর প্রথম জীবনীকার ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় তাঁকে ঈশ্বরচন্দ্রের সাথেই তুলনা করেছিলেন। বাংলা সাহিত্যে মুসলিম কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে মীর মোশাররফ হোসেনের নাম সবার শীর্ষে। তাঁর সাহিত্যের ভাষা প্রাণোচ্ছল ও বেগবান। আধুনিক যুগে মুসলিম বাংলা সাহিত্যের বহু প্রতিভার অধিকারী, সমাজ হিতৈষী মীর মোশাররফ হোসেন তাঁর নানা কাব্য ও সাহিত্যে বাংলার মুসলমানকে প্রাচীন মুসলিম গৌরব ও ঐতিহ্যে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াস পেয়েছিলেন। তিনি একাধারে ছিলেন কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, জীবনীকার ও সমাজ সচেতন ব্যক্তি। মীর মোশাররফ হোসেন গতিশীল গদ্য রচনায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন। নাটক ও আত্মজৈবনিক উপন্যাসগুলিতে তিনি সমকালীন সমাজের অসঙ্গতি ও সমস্যার ওপর তীক্ষ্ণ কটাক্ষপাত করেন। তিনি সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে মুক্ত ছিলেন। উদার দৃষ্টিকোণ থেকে ‘গোকুল নির্মূল আশঙ্কা’ প্রবন্ধ লিখে তিনি নিজ সমাজ কর্তৃক নিগৃহীত হয়েছিলেন। তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।  ১৮৭০ এর সময়ে বঙ্কিমচন্দ্র নিজে ‘বঙ্গদর্শনে’ এসে মোশাররফ হোসেনের গদ্য রচনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। সেই সময় বঙ্গ সাহিত্যে আজকালকার মতো সমৃদ্ধও প্রচলিত ছিলনা। একমাত্র বঙ্কিমের অসামান্য প্রতিভায় তা জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলো এবং সাহিত্য ক্ষেত্রে অন্যান্য দিক পালেরা আবির্ভূত হন আরও পরের দিকে। সেসময়ে বর্তমানের বঙ্গ সাহিত্যের প্রেরণা খুব সুলভ ছিলনা এবং সাহিত্য সাধনাও ছিল খুব অন্তরায় বা বাধাগ্রস্ত। কাগজ ও মুদ্রন যন্ত্রের অপ্রাচুর্য্যতা, প্রকাশকের অনাগ্রহ, পাঠকগণের মধ্যেও উৎসাহ উদ্দীপনার অভাব, বিশেষ করে তার নিজের সমাজের মধ্যে সাহিত্যিক ও সাহিত্যানুরাগীর স্বল্পতা এই সকল প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যে সাহিত্যের প্রেরণা নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে ধরে নিজের জীবন-মরণ করে তোলা; বিশেষ করে সুদুরপল্লীতে যেখানে সাহিত্যালোক বঞ্চিত, নিভৃত কোন গ্রামাঞ্চলে বসে সাহিত্য সাধনাকে সাফল্যের পথে নিয়ে যাওয়া খুব সহজ সাধ্য ছিল না। এখানেই মীর মোশাররফ হোসেনের কৃতিত্ব, এখানেই তাঁর মণীষার বিকাশ ও শাশ্বত গৌরব।

বাংলা সাহিত্যের রূপকার, মুসলমান সমাজের পথপ্রদর্শক মীর মোশাররফ হোসেন ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ১৯ ডিসেম্বর প্রায় ৬৪ বছর বয়সে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন; নিজগ্রাম রাজবাড়ীর পদমদীতেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। বাংলাদেশের সরকার এই মহান সাহিত্যিক মীর মোশাররফ হোসেনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বাংলা একাডেমী কর্তৃক স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন করেছেন। তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে তিন একর জমিদারের ওয়াকফ করা পরিত্যক্ত জায়গায় মীরের সাহিত্য কর্মের ওপর গবেষণার জন্য দুই কোটি তিপ্পান্ন লাখ টাকা ব্যয়ে পদমদী গ্রামে মীর মোশাররফ স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। ২০০২ সালে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আরও তৈরি করা হয় মীর মোশাররফ হোসেন ও তার দুই স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের কবরের ওপর বিশালকায় সমাধি, এর সামনে স্থাপন করা হয় মীর মোশাররফের একটি মুর‌্যাল। শুরুতে এই স্মৃতিকেন্দ্র ঘিরে সাহিত্যপ্রেমী ও এলাকাবাসীর মনে অনেক স্বপ্ন জন্ম দিলেও, এত বছর পর আজও স্মৃতিকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। কেন্দ্রের লাইব্রেরিতে অন্যান্য লেখকের কিছু বই ও গ্রন্থ থাকলেও মীরের জীবনী বা তার লেখা দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য ৩৭টি গ্রন্থের কোনো বই বা গ্রন্থ এ লাইব্রেরিতে সংগৃহীত নেই। আগত সাহিত্যপ্রেমী/পাঠকদের জন্য পড়ার কোনো টেবিলচেয়ার বা কোনো পত্র পত্রিকাও নেই। এলাকাবাসীর দাবি, মীর মোশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্রটি সরকার পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলুক। এই স্মৃতিকেন্দ্রটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত করলেও হয়তো এটিকে আরো সুচারুভাবে পরিচালিত করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.