ব্রেকিং নিউজ :
Home » অন্যান্য » শিল্প ও সাহিত্য » টাকি মাছের কলিং বেল

টাকি মাছের কলিং বেল

56554প্রাইম নিউজ ডেস্ক : হ্যান্ডশেক হলো কাঁচা মরিচ-ঘটিত একটি ব্যাপার’ এমন একটি লাইন পড়ার পর আপনাকে একটু থমকে দাঁড়াতে হবে। আবার পিছনে গিয়ে পুরো কবিতা পড়ে আসতে হবে। না হলো না। আবার শুরু করতে হবে। আমি এমন কবিতাই পড়তে চাইব। যার কাছে আমার বারবার ফিরে আসতে হবে। রাজীব আর্জুনির ‘টাকি মাছের কলিংবেল’ এর কবিতাগুলো পড়তে পড়তে আমার কেবল ফিরে ফিরে আসতে হচ্ছিলো। আরো অনেকবার এই কবিতাগুলো পাঠে ফিরে আসতে হবে।
‘বকুল তলায় ছেলেমেয়ে খায় বাতাস
ছবি আঁকে
শিবু কুমার শীল এঁকেছিলেন একবার প্রচ্ছদ
মনে পড়ে;
হায় মন! মন চলে ফিউশনে’
কবিতার এমন পাঠ আমাদের গতানুগতিক পাঠের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা সাধারণত কবিতাকে যেমন পাঠ করি এগুলো তেমন নয়। একটু বাঁকানো ও বেসুরো পাঠ যেনো। প্রথমবারে আপনি নিশ্চিত ধাক্কা খাবেন। কিন্তু যতই ভিতরে যাবেন পেয়ে যাবেন অনেক অদেখার সন্ধান। নাম কবিতাটা ধরুন না-
‘রহিম বাদশার পরে আগে নয় যাত্রাপালার আগে যে ঝুমুর ঝুমুর নাচ সেখানে সত্যিই মানুষগুলো রৌদ্রভাঙা কাঠবাদাম; চা-স্টলে নায়ক সালমান শাহর ছবি দেখে লোকেরা থ মারে পরে নায়কের মৃত্যু নিয়েও কাঁদে; রাসেল ক্রোর কথা তো বাদই দিলাম। ভালোবাসিলে দাম দিতে হয় না মধুসূদন।’
এই কবিতা একদম অমূলক ও উদ্দেশ্যহীন উপমায় গাঁথা তা নয়। এখানে ঘুরেফিরে এসেছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা অনুষঙ্গ। টাকি মাছ, কলিংবেল, সালমান শাহ, মাশরাফি, মেসি, চা স্টল কিংবা ভাইবার সবই পাবেন। এই কবিতাগুলো দিয়ে একটা আধুনিক মিথ নির্মাণের চেষ্টাও আমরা দেখি। সেইসাথে একটু পর পর চকমপ্রদ বেশকিছু স্যাটায়ারও কবি আমাদের সামনে নিয়ে আসেন যেমন- ‘পঞ্চাশ বছর পরে মানিব্যাগ দেখতে কেমন হবে এই নিয়ে জেসন গিলেস্পির বাড়িতে গেলে কেমন হয়; সাথে থাকলো অর্থনীতিবিদ; করাত কল!!’
তবে স্যাটায়ারগুলোও উদ্দেশ্যহীন নয়। প্রচলিত সমাজ ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে একটা খোঁচা দেওয়ার একটা সুক্ষ প্রচেষ্টাও এই কবিতাগুলোতে পাওয়া যায়। তবে বলাটা সরাসরি না হওয়ায় কবিতাগুলো নিছক শ্লোগানে পরিণত হয় নাই। এক ধরনের এলিনেয়শন এখানে কবি রেখে দিয়েছেন যার ফলে এই কবিতাগুলোর সরাসরি পাঠ হয় না।
তবে হ্যাঁ কয়েকটা জায়গায় কবি পুরোপুরি ঋজু থাকতে পারেন নাই কবি। যেমন ‘ন্যানো সেকেন্ডের গলদা চিংড়ি’ এই কবিতাটা আমি শেষের লাইনটা বাদ দিয়েই পড়তে পছন্দ করবো। ‘টিউনিং ছাড়া ট্রেড মার্কেটিঙের চাকরি তুমি পাবা না গোলাম হোসেন!’ এই লাইনটাতে কবিতাটার যে রহস্য উপরে তৈরি হয়ছিলো তা নষ্ট হয়ে যায়। তবে পুরো বইয়ে এমন কবিতা খুব কমই মিলবে যেখানে কবির বক্তব্য কোন আড়াল না রেখেই আমাদের কাছে ধরা দেয়।
আবার কদম ফুল ‘সে তো নায়ক ছাড়াই কিংবদন্তি! কিন্তু কেন!?’ এই কবিতাটির পরতে পরতে রহস্য আর ঘোর। সেই ঘোর শেষ হতে না দিয়েই কবি প্রশ্ন রেখে কবিতাটি শেষ করে দেন। সেই রহস্যের কাছেই আমাদের বারবার ফিরে আসতে হবে।
উপরিকাঠামোর পাঠে এই কবিতাগুলো ছাড়া ছাড়া ও বিচ্ছিন্ন কিছু ইমেজের বেশি কিছু মনে নাও হতে পারে। তাই এই কবিতাগুলোর নিবিড় পাঠ প্রয়োজন। তাহলে দেখা মিলবে কেন্দ্রীয় প্রবণতা ও শৃঙ্খলার।
কবিতাগুলো সীমাবদ্ধতার কথা যদি বলতে হয় তবে এই কবিতাগুলোয় বৈচিত্র্য খুব কম। ‘প্লাবন’, ‘হিজলকে অনুবাদ করোনা’ কিংবা ‘স্বর্ণমুদ্রা, বাইজি রাত’ এর মতো কবিতা খুব বেশি নেই। তবুও বলতে হয় এরকম কবিতা বাংলা কবিতায় খুব কমই লেখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.