ব্রেকিং নিউজ :
Home » আইন ও আদালত » মানসিক অবস্থা জানলেন আদালত

মানসিক অবস্থা জানলেন আদালত

প্রাইম নিউজ ডেস্ক : মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সকাল দশটার কিছু আগে ঐশীকে আদালতে হাজির করা হয়।

সকাল সাড়ে দশটায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ মামলায় মানবাধিকার কর্মীরা একটি রিট পিটিশন করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ঐশীর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে একটি প্রতিবেদন এসেছে। আসামিপক্ষ এ প্রতিবেদনটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই, তাকে আদালতে হাজিরের জন্য বলা হয়েছিল। আমরা ঐশীর সঙ্গে বিশেষভাবে কথা বলতে চাই। এ সময় দুই বিচারক দুইপক্ষের দুই আইনজীবীর উপস্থিতিতে বিচারকদের খাস কামরায় এশীর সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলেন। বেলা ১১টার দিকে ঐশীকে আবারো কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

এরপর উভয়পক্ষের আইনজীবীরা শুনানি শুরু করেন। আদালতে ঐশীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আফজাল এইচ খান, সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী ও মাহবুব হাসান রানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম ও নিজামুল হক নিজাম। ঐশীর আইনজীবীরা জানান, ২০১৩ সালে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ঐশীর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও তা মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী ২০১৪ সালের ২৬শে এপ্রিল বিএসএমএমইউ ঐশীর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়। সেখানে তার মানসিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়। গত ৩রা এপ্রিল ঐশীর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানিতে ওই প্রসঙ্গটি এলে আদালত ঐশীকে ১০ই এপ্রিল (গতকাল) সকাল সাড়ে ১০টায় হাজির করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
২০১৩ সালের ১৬ই আগস্ট রাজধানীর চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এর আগেই ছোট ভাইকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান ঐশী। এ ঘটনায় পরদিনই ঐশীর চাচা মশিউর রহমান পল্টন থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই ঐশী পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করেন।

২০১৪ সালের ৯ই মার্চ গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আবুল খায়ের মাতুব্বর এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে জমা দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২০১৫ সালের ১২ই নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক সাঈদ আহমেদ। রায়ে ঐশী রহমানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে সহায়তা দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ঐশীর আরেক বন্ধু আসাদুজ্জামান জনিকে খালাস দেয় আদালত। হত্যায় সহযোগিতা করার অভিযোগে এ মামলায় ঐশীদের বাসার অপ্রাপ্তবয়স্ক গৃহকর্মীকেও আসামি করা হয়। তার বিচার কিশোর আদালতে চলছে। ঐশীর ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ২০১৫ সালের ১৯শে নভেম্বর হাইকোর্টে আসে। ওই বছরের ৬ই ডিসেম্বর খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন ঐশী। গত ১২ই মার্চ এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.