ব্রেকিং নিউজ :
Home » নিউজ বক্স » ‘নোয়াখালী বিভাগ’ গণমানুষের প্রাণের দাবী

‘নোয়াখালী বিভাগ’ গণমানুষের প্রাণের দাবী

স্টাফ রিপোর্টার : ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সোনার বাংলা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সর্বস্তরের জনসাধারণ। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাখাত, বৈদেশিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যের যোগান সহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত এতদাঞ্চলের মানুষজন। দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগেও গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চল। এ অঞ্চলের অনুন্নত জনপদ সমূহকে উন্নয়নের চাদরে মুড়িয়ে দিতে, গণমানুষের প্রাণের দাবী নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্মস্থান নোয়াখালী অঞ্চলে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণেও এগিয়ে এ অঞ্চলের মানুষজন। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মাতৃভূমি এ নোয়াখালী। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেকেই নোয়াখালীর সন্তান। তাছাড়া নারিকেল-সুপারির জন্য বিখ্যাত নোয়াখালী অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য দেশের অর্থনীতিকে করছে নানাভাবে সমৃদ্ধ। নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন করা হলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কৃষিখাতে যোগ হবে উন্নয়নের নতুন মাত্রা। সম্ভাবনাময় এ অঞ্চল দেশের সার্বিক উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রকাশপাবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

এদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক যোগাযোগ মাধ্যম লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলা। নৌ ও সড়ক পথে খুলনা, বরিশাল, ভোলা, যশোর ও ফরিদপুর অঞ্চল হতে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রবেশদ্বার হচ্ছে এ দুটি জেলা। ভোলা লক্ষ্মীপুর ফেরি এবং শরিয়তপুর হরিণা ফেরি হয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এসব জেলা হতে বাস, ট্রাক, কার্গোসহ বড় বড় যানবাহনগুলো নোয়াখালীর উপর দিয়ে ফেনী জেলা হয়েই চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে যাতায়াত করছে । অথচ এ অঞ্চলের মহাসড়কগুলো অনুন্নত থাকায় নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। দুই লেনের এসব সড়কে প্রায়ই ঘটছে মর্মান্তিক সব দূর্ঘটনা। তাছাড়া যানজটের মাত্রা তো ক্রমেই বেড়ে চলছে। নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন হলে দ্রুত নিরসন হবে এসব সমস্যার। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই।

এছাড়া দেশের মোট প্রবাসীদের অধিকাংশই নোয়াখালী অঞ্চলের। এ অঞ্চলের প্রবাসীদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের রেমিটেন্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিদেশে কর্মসংস্থান করে নেওয়ায় দূর হচ্ছে বেকার সমস্যা। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর এ অঞ্চলের অনেকেই নিজ দেশে এবং বিদেশে গড়ে তুলছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানা। নোয়াখালী বিভাগ হলে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় নতুন একটি উন্নত শিল্প এলাকার উত্থান প্রত্যাশা করছেন দেশ বরেণ্য শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের অনেকেই।

চট্টগ্রাম বিভাগের অর্ধাঙ্গ ছিল বৃহত্তর নোয়াখালী। রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন একটি বিভাগ গঠনের জন্য নোয়াখালী অঞ্চলের বিকল্প নেই। তাছাড়া বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কুমিল্লায় অবস্থিত হওয়ায় বৃহত্তর নোয়াখালীর শিক্ষা কার্যক্রম অনেকাংশেই পিছিয়ে বলে ধারণা বিজ্ঞজনদের। নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন করা হলে, এ অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থাও আরো উন্নত হবে। সুশিক্ষিত জনশক্তি গঠন করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরা সহজ হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের মানচিত্রে নোয়াখালী বিভাগ দেখার অধীর আগ্রহে প্রহর গুণছে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সর্বস্তরের জনসাধারণ।

 

লেখক ও সংবাদকর্মী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.