ব্রেকিং নিউজ :
Home » ব্রেকিং নিউজ লেখা » ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ওপর হামলা !

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ওপর হামলা !

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোররাতে ঢাকা থেকে ফেরার পথে পৌনে ৩ টার দিকে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা থানার গাড়াগঞ্জের বড়দা এলাকায় এ হামলার শিকার হন তিনি। দূর্বৃ[ত্তদের রামদার আঘাতে তার ব্যবহুত গাড়ির বাম পশের গ্লাস ভেঙ্গে যায়। এসময় তিনি দৌয়ে প্রান রক্ষার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তকে উদ্ধার করে ভিসির বাংলোতে নিয়ে আসেন। তবে তার কোন ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
ডভসির ভাষ্য মতে, গত রাতে কাজ শেষ করে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে রওয়ানা দেই। হঠাৎ আমি নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ও আমার প্রাইভেট সেক্রেটারীকে তার বাসায় নামিয়ে দেব বলে রাস্তা পরিবর্তন করি। তাই কুষ্টিয়া হয়ে না এসে ফেরি পার হয়ে ঝিনাইদহ হয়ে ফিরছিলাম। ঝিনাইদহে রেজাকে (পিএস) ওর বাসার রাস্তায় নামিয়ে দেই। আমি ক্লান্ত থাকি বলে স্বভাবতই গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়ি। ঝিনাইদহ পার হওয়ার পর আমার ঘুমের রেশ কেটে যায়।
এরপর গাড়াগঞ্জ এলাকায় আসার পার হঠাৎ সামনে দু চারটা ট্রাক দাড়িয়ে থাকতে দেখি। এর একটু পর দেখি রাস্তার মাঝে একদম আড়াআড়ি ডালপালা সহ একটা গাছ পড়ে আছে। তখন আমি পুরো জেগে গেলাম। ভাবলাম ঝড় বৃষ্টি নেই কিন্তু গাছ পড়ে আছে কেন। তখন আমরা গাছের কাছাকাছি প্রায় চলে গেছি। আমার ড্রাইভার আরিফ বললো স্যার লক্ষন তো ভাল মনে হচ্ছে না। তখন সে সাইলেন্সার বাজাতে শুরু করলো। এরপর ব্যাক গিয়ার দিয়ে পিছনের দিকে আসতে লাগলাম। ভাবলাম পিছনের কোন রাস্তা দিয়ে ঘুড়ে যাওয়া যায় কিনা। ততক্ষনে পিছনে চার পাঁটা ট্রাক জমে গেছে।
গাড়ি ঘোড়ানো যাচ্ছিল না। তখনও আমি অত সিরিয়াস না। ও (আরিফ) ইয়ার ভিউ মিররে (লুকিং গ্লাস) দেখে আমাকে বলল যে স্যার পিছন থেকে তিন চার জন লোক মাফলার দিয়ে মুখ বেধে গাড়ির দিকে দৌড়াচ্ছে। তাদের হাতে রামদা জাতীয় অস্ত্র ছিল। পিছনের দিকে কিছু দূর গিয়ে গাড়িটা থেমে গেল। তারা অতর্কিত আমার বাঁ দিকে গাড়ির গ্লাসে রাম দা দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করতে লাগল। গাড়ি গ্লাস বুলেট প্রুভ কিন্তু তার পরও ভেঙ্গে গেছে। তখন আরিফ দ্রুত গাড়ি টান দিল। এরপর আরিফ বলল পালান স্যার ঘটনা ভাল মনে হচ্ছে না। রাস্তার বা সাইডের খালের মধ্যে লাফ দিয়ে হামাগুড়ি দিতে দিতে ভিতরের জঙ্গলে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। সেখানে ছোট ছোট শক্ত শক্ত গাছ। যাওয়া যাচ্ছে না। পরে দেখলাম যে প্রায় ১০-১৫ গজ দূরে চলে এসেছি। ওই সময়টা আমার জীবনের সব চেয়ে ভয়াভয় ছিল। আমার জীবনে আমি এরকম অবস্থার মুখোমুখি হইনি। দুজন আমার দিকে এগিয়ে আসছে। দুজনের হাতেই রামদা ও টর্চ ছিল। আল্লাহর নাম নিলাম যে এখাই আমার জীবনের ইতি। এখান থেকে আর কি করার আছে। তারা এসে বলল যে এই টাকা আছে নাকি। আমি ভাবলাম যে টাকার কথা বললে আবার গাড়ির কাছে চলে যায় কি না। বললাম যে টাকা আছে। ততক্ষনে অনেক গাড়ি চলে এসেছে। ওরা আমাকে গাড়ির কাছে নিয়ে আসে। আমি ওদের চোখের দিকেও তাকাই নি ভয়ে। ভাবলাম যে টাকা পয়সা দিয়ে কিছু করা যায় কি না। মানিব্যাগও খুজে পাচ্ছিলাম না। ততক্ষনে তাদের মধ্যে দেখলাম যে একটা চাঞ্জল্যতা কাজ করছে। ওরা বললযে এখান থেকে একদম নড়বি না। আমি ভাবলাম যে ওরা হয়ত আরো লোক জন নিয়ে আসছে। তখন বললাম যে এই ল্যাপটপটা নিয়ে যান। তখন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। বলে যে ল্যাপটপ দরকার নেই টাকা দরকার। বলে গাড়ির পিছনে চলে যায়।
তখন আবারো জীবনের ঝুকি নিয়ে জাম্প করে ডানে বামে না নেমে গাছটা ক্রস করে মিনিট খানেক দৌড়ালাম। হাতের বাম দিকে আবছা আলোয় একটা বাড়ি দেখে সেখানে গিয়ে নক করতে থাকি। অনেক্ষন পরে এক বৃদ্ধ লোক বেরিয়ে আসে। পরে আমাদের থানার গাড়ি গিয়ে আমাকে নিয়ে আসে।”
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠন গুলো এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে।
এবিষয়ে শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “আমরা খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ভিসি কে উদ্ধার করে বাংলতে নিয়ে যাই। এখন অপরাধীদের এলাকায় চিরোনী অভিযান চলছে।”
এ বিষয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, “ঘটনা শুনে আমি দুই জেলার পুলিশকে জানাই। তখনও স্যারকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে ট্রাক করে স্যারকে খুজে পাই। আমি সরকার বাহাদূরকে অনুরোধ করবো এই ঘটনার মূল উৎপাটন করে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.