সব

‘হয়রানির ট্রেলার চলছে, পিকচার এখনো বাকি’

AUTHOR: Primenews24bd Desk
POSTED: Saturday 5th December 2015at 10:18 pm
20 Views

15স্টাফ রিপোর্টার ঃ পৌর নির্বাচনে ভোট গ্রহণের আগে বিএনপি জোটের ‘সম্ভাব্য বিজয়ী’ প্রার্থীদের মিথ্যা মামলায় হয়রানি করে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হচ্ছে-অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ক্ষমতাসীনদের ‘হুমকি’ ও ‘ভয়ে’ অনেক জনপ্রিয় ব্যক্তি তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি। হুমকি-ধামকির মাধ্যমে একটি প্রহসনের নির্বাচন মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে-উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে তা ট্রেলার, পিকচার এখনো বাকি আছে। সুতরাং যত দিন যাবে, প্রতিদিন তত দুঃসংবাদ গণমাধ্যমে দেখা যাবে।’

শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির অন্যতম শরিক দল ‘বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি’র অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে যোগ দিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ফেনী, পশুরাম ও দাগনভূইয়া পৌরসভার ৪৮টি কমিশনার পদের ৩৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। অর্থাৎ এরা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনোনয়নপত্রই সংগ্রহ করতে দেয়নি। একেক নির্বাচনে একেক ধরনের কলা- কৌশল দেখা যাচ্ছে। পেশীশক্তির এই প্রকাশ আমাদের বিস্মিত ও বেদনাহত করে।’ স্থানীয়ভাবে অনেক জনপ্রিয় নেতা জীবনের ভয়ে পৌর নির্বাচনে অংশ নেননি বলেও দাবি করেন বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান। ‘সাভারের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান রেফাতউল্লাহ বিনা কারণে কারাভোগ করছেন। তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন, কিন্তু হুমকি এবং ভয় দেখানোর কারণে নির্বাচনে আর প্রার্থী হতে পারেননি। কারণ তার জীবনের আশঙ্কা রয়েছে। মৌলভীবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান বজলুর করিম মঈনকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। নান্দাইলের বর্তমান চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনিও নির্বাচনের প্রার্থী। দিনাজপুরের বর্তমান মেয়র যিনি প্রার্থী, তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে’ যোগ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মত পৌরসভা নির্বাচনেও ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন হাফিজ উদ্দিন।
তিনি দাবি করেন, এ ব্যাপারে সকল ধরনের কৌশল, ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা সবকিছুই করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করবে নির্বাচন কমিশন এবং বর্তমান প্রশাসন। ‘দেশে আইনের শাসনের নামে দুঃশাসন চলছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন মানবাধিকার ভুলণ্ঠিত। সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চলছে। রাজনীতিতে চলছে দুর্বৃত্তায়ন।’ এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সব বিবেকবান ও ন্যায়পরায়ণ মানুষকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেশে একটি আইনসভা আছে কিন্তু আইনের শাসন নেই। অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি সাংসদ সেজে জনগণকে নছিয়থ করছে। এদের অপকর্ম ও দুর্নীতির কাহিনী অবশ্যই ভবিষ্যতে প্রকাশ করা হবে।’ বিএনপি জোটের নেতা-কর্মীদের হতাশ করতে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে দাবি করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘অতি অল্প সময়ে ২০ দলীয় জোট রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবে। ব্যালটের মাধ্যমে হোক অথবা রাজপথের সংগ্রামের মাধ্যমে হোক খালেদা জিয়া জিয়ার নেতৃত্বে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় যাবে বিএনপি।’ বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. ইব্রাহিম বীর প্রতীককে চেয়ারম্যান এবং ভারপ্রাপ্ত মাহসিচব এম এম আমিনুর রহমানকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। কাউন্সিলে চেয়ারম্যানের বক্তব্যে সৈয়দ ইব্রাহিম শ্রম, মেধা ও সময়কে মূল্যায়ণ করে কল্যাণ পার্টিকে আরো শক্তিশালী এবং রাজপথের আন্দোলনে থাকতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে দলটির নেতা ড. ডা. ইকবাল হাচান মাহমুদ, কাহির মাহমুদ এফসিএ, আজাদ মাহমুদ, মো. ইলিয়াস, বদরুদ্দোজা রশিদ বাবলা, সাহিদুর রহমান তামান্না, নুরুল কবির ভুঁইয়া পিন্টু, রাশেদ ফেরদৌস সোহেল, আলী হোসেন ফরায়েজী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর